Advertisement

Responsive Advertisement

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন দৃঢ় হয়: মুখ্যমন্ত্রী


আগরতলা, ৩০ মার্চ: রাজ্যের সকল জাতি, জনজাতি গোষ্ঠীর কৃষ্টি ও সংস্কৃতি রক্ষায় বর্তমান সরকার সচেষ্ট। রাজ্যে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি পুনরুদ্ধার এবং তার প্রসারে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্যদিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন দৃঢ় হয়। আজ রাজ্যভিত্তিক বসন্ত উৎসবের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা। রাজ্যভিত্তিক বসন্ত উৎসব উদযাপন কমিটির উদ্যোগে এবং পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদ, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা প্রশাসন, আগরতলা পুর নিগম, পূর্ত দপ্তর, গ্রামোন্নয়ন দপ্তর, পর্যটন দপ্তর এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সহায়তায় কুমারীটিলাস্থিত বেসিক ট্রেনিং কলেজ মাঠে এই রাজ্যভিত্তিক বসন্ত উৎসব আয়োজিত হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা বলেন, রাজ্যে বসবাসরত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নিজস্ব কৃষ্টি ও সংস্কৃতি রয়েছে। রাজ্য সরকার প্রতিটি জাতি গোষ্ঠীর সংস্কৃতির প্রসারে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। রাজন্য আমলে রাজবাড়িতে বসন্ত উৎসব ঘটা করে পালিত হত। সেইগুলি আমাদের রাজ্যের গৌরবময় ইতিহাস। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের সংস্কৃতির প্রসারে সরকার নাটক, যাত্রা, লোকযাত্রা, পুতুলনাচ এইসব হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতির উন্নতিকল্পে নিয়মিত প্রচেষ্টা জারি রেখেছে। রাজ্যে ফিল্ম ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে রাজ্যের ছেলেমেয়েরা নাটক, থিয়েটার, টেলিভিশন ইত্যাদি ক্ষেত্রে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার উপযুক্ত পরিকাঠামোর সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া রাজ্যে খেলাধুলার প্রসারেও গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার। বর্তমান সরকার স্বচ্ছতার সাথে সরকার পরিচালনায় বিশ্বাসী। রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন যেকোন অপরাধ সংগঠিত হলে তা দমনে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনি বলেন, প্রতিটি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণীর কথা মাথায় রেখে রূপায়ণ করা হচ্ছে। দেশ সুরক্ষায়ও গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে কেন্দ্রীয় সরকার। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির উন্নয়নে অ্যাক্ট ইস্ট পলিসির মাধ্যমে বিভিন্ন পরিকল্পনা রূপায়িত হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার রাজ্যের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের বাজেট তৈরি করেছে। বাজেটে মানসিক দিব্যাঙ্গজনদের জন্য ৫ হাজার টাকা মাসিক ভাতা প্রদানের সংস্থান রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে প্রতিটি মহকুমায় কোচিং সেন্টার চালু করা হবে। এছাড়া মহিলাদের উন্নয়নেও সরকার কাজ করে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী বসন্ত উৎসবের আগামীদিনে আরও প্রচার ও প্রসারের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, বসন্ত উৎসবে জাতি, জনজাতি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সংস্কৃতির সংমিশ্রণের ফলে বৈচিত্রের মধ্যে ঐকতা লক্ষ্য করা যায়। রাজ্যে আইনের শাসন আছে বলেই এই ধরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সাড়ম্বড়ে পালিত হচ্ছে। এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ রাখেন পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উত্তর ত্রিপুরা জেলার জিলা পরিষদের সভাধিপতি অপর্ণা নাথ, ধলাই জেলার জিলা পরিষদের সভাধিপতি সুস্মিতা দাস, সিপাহীজলা জেলার জিলা পরিষদের সভাধিপতি সুপ্রিয়া দাস দত্ত, অল ত্রিপুরা জিমন্যাস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পাপিয়া দত্ত, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ও সমাহর্তা ডা. বিশাল কুমার, পুলিশ সুপার কিরণ কুমার কে এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য প্রমুখ। উল্লেখ্য, আজকের অনুষ্ঠানের শুরুতে ২৫০ জন শিল্পী দ্বারা সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশিত হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানে মটকা ফোড় ও চারটি মঞ্চে চিরাচরিত বসন্তের সঙ্গীত ও নৃত্য, রাজন্য আমলের বসন্ত উৎসবের সঙ্গীত ও নৃত্য, রবিঠাকুরের শান্তিনিকেতনের আয়োজিত বসন্ত উৎসবের নৃত্য এবং মণিপুরী সম্প্রদায়ের বসন্ত উৎসবের নৃত্য পরিবেশন করে শিল্পীগণ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ